মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে আবারও ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই এবং এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে নগদ টাকা ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক যুবক মোটরসাইকেলে করে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে মাদ্রাসাসংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের একটি দল সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর গতিরোধ করে। চালক মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সড়কে টহলরত কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চালককে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-ঠিকানা জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তাঁর বাড়ি শেরপুরে। তিনি ভৈরবে একটি ব্র্যাক সমিতির কার্যালয়ে চাকরি করেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর রাজগোপাট সড়কে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় উত্তর লক্ষ্মীপুর নজেরবাড়ি গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় নির্জন রাস্তায় একদল সশস্ত্র ছিনতাইকারী তাঁর গতিরোধ করে। ছিনতাইকারীরা রিমনের চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও, আগরপুরসহ আশপাশের এলাকায় রাতের বেলায় ধারাবাহিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে আসছে। একই সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহনে ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে চালক ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ দুটি ঘটনার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

