সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আউশ ও সবজির জমিসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১,৯০০ কৃষক

লামায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আউশ ও সবজির জমিসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১,৯০০ কৃষক

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৮৭২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় মোট ১৬ হাজার ৬৬৭ হেক্টরের বেশি ফসলি জমির মধ্যে ৯৫৫ হেক্টর জমি দুর্যোগের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৮৩২ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমতল এলাকার মোট ৪,৩৭৪ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৫৪৭ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়েছে। সমতলের ৩২ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ২০ হেক্টর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৮ দশমিক ৪০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩৯০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে, ২,০৪৬ হেক্টর আউশ আবাদি জমির মধ্যে ১৬৭ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯৮ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে। ১,৩৩৬ হেক্টর জমির মধ্যে ২৩৪ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ হেক্টর সবজির জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৮ দশমিক ৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ১,২৩0 জন সবজি চাষি চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এছাড়া সমতলের ১২১ হেক্টর ফলবাগান এবং ৫ হেক্টর অন্যান্য ফসলি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

পাহাড়ি ও জুম চাষের ক্ষেত্রে মোট ১২,২৯৩ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৪০৮ হেক্টর জমি দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় কোনো জমি সম্পূর্ণ বিনষ্ট না হলেও ১১ দশমিক ৭৫ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুমের ৩০০ হেক্টর আক্রান্ত জমির মধ্যে ২ দশমিক ৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০ হেক্টর আদা ও ২৮ হেক্টর হলুদের জমি আক্রান্ত হয়ে যথাক্রমে ১ দশমিক ৮৫ হেক্টর ও ২ দশমিক ৪০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ৫০ হেক্টর পাহাড়ি ফলবাগানের মধ্যে ৫ হেক্টর বাগানও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছা. শাকিলা আক্তার জানান, আকস্মিক বন্যায় কৃষকদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *