মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. আওয়াল মিয়া (৪৫) নামে এক বিভাটেক (অটোরিকশা) চালকের ওপর হামলা, মারধর ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই বাদী ও তার পরিবার বিবাদীদের হুমকির মুখে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. তাহের উদ্দিনের ছেলে বিভাটেক চালক আওয়াল মিয়া দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে দ্বাড়িয়াকান্দি গ্রামের মাসুদ মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একই গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। পরে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত ও হাড়ভাঙা জখম করে। একই সঙ্গে অটোরিকশা কেনার জন্য সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ সময় আহত আওয়াল মিয়ার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় আহত বিভাটেক চালক আওয়াল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রত্না বেগম (৪০) বাদী হয়ে গত ১২ জুলাই কুলিয়ারচর থানায় একই গ্রামের মৃত অহিল উদ্দিনের ছেলে মুক্তার মিয়া (৬০), তার দুই ছেলে মো. রাব্বি মিয়া (২৮) ও মো. জিদনী মিয়া (২১), স্ত্রী রেখা বেগম (৫২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/১১৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১২।
বাদী মোছা. রত্না বেগম জানান, মামলা রুজুর পর বিবাদী মুক্তার মিয়া, তার ছেলে মো. জিদনী মিয়া ও স্ত্রী রেখা বেগম কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত মুক্তার মিয়া ও রেখা বেগমের জামিন মঞ্জুর করলেও তাদের ছেলে মো. জিদনী মিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর ছেলে মো. রাব্বি মিয়া এখনও আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন রত্না বেগম। তিনি বলেন, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে পলাতক আসামি মো. রাব্বি মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, আসামি রাব্বি মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হুমকি-ধমকির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

