সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

“সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা জামান ফাউন্ডেশনের” কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ

কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেছে সামাজিক ও পরিবেশভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জামান ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল- “লাগাবো বৃক্ষ, নির্মল হবে পরিবেশ, গড়ব সবুজ বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাহউদ্দিন মুর্শেদ নিজামী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলেহ উদ্দিন রতন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও মো. রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম (মুছা), বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ হান্নান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও পরিবেশদূষণের মতো সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ফল উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর অন্তত একটি গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

জামান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জামান বলেন, মানুষের প্রকৃত বন্ধু হলো গাছ। একটি গাছ বছরের পর বছর মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করে যায়। তাই জন্মদিন, জাতীয় দিবস কিংবা জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করতে একটি করে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ যে চারাগাছ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, কয়েক বছর পর সেটিই ফল, ছায়া ও নির্মল বাতাসের উৎস হয়ে উঠবে। তাই শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমেই একটি চারা পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হয়।

আয়োজকরা জানান, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বনভূমি হ্রাস, বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। ফলজ গাছ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা ও পারিবারিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনও শিক্ষার্থীদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চারা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারা নিজ নিজ বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার অঙ্গীকার করে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ গাছের চারা তুলে দেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে বছরে অন্তত একটি ফলজ, বনজ বা ঔষধি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।

জামান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ উদ্যোগ একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সবুজায়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *