বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত রোববার থেকে টানা ও ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধস এবং ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লামা-বান্দরবান-সুয়ালক সড়কের টিটিএন্ডডিসি এলাকাসহ একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লামা উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সার্বিক তদারকির জন্য খোলা হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ)।
ভৌগোলিক কারণে লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দার ৯০ শতাংশ মানুষ পাহাড়ের চূড়া, পাদদেশ ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাস করেন। বিগত বছরের ভয়াবহ পাহাড় ধসের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় তাদের। ফলে বর্ষা এলেই আতঙ্ক বেড়ে যায় এই পার্বত্য জনপদের মানুষের মধ্যে।
এদিকে, পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে আজিজনগর চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা ভবন।
বর্তমানে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়া, নারকাটাঝিরি, হাসপাতালপাড়া, বড় নুনারবিলপাড়া, চাম্পাতলী, নয়াপাড়া, সাবেক বিলছড়ি, রাজবাড়ী, কলিঙ্গাবিল, কাটাপাহাড়, মধুঝিরি ও ছাগলখাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং ফাইতং ইউনিয়নের রইম্যাখোলা অঞ্চল, আজিজনগর, সরই, গজালিয়া ও রূপসীপাড়ার পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী হাজারো পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত পাহাড়ের মাটি নরম করে দেয়, যা পাহাড় ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য পাহাড় ধস, বন্যা ও আকস্মিক জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশাসনিক সভাকক্ষে জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বর্ষা মৌসুমে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা শহরের আটটি স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে যারা বৃষ্টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের নিচে অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

