ফরিদপুর: ফরিদপুরের মধুখালী থানায় স্ত্রী ঝর্ণা ওরফে বন্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌরভ কুমার দাসকে (২২) গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যবর্তী সময়ে মধুখালী থানাধীন পশ্চিম গাড়খোলা এলাকার জনৈক নজরুল ইসলাম খোকনের ভাড়াটিয়া বাসায় এই হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটে। সৌরভ কুমার দাস তার ২ বছরের সন্তানের সামনেই স্ত্রী ঝর্ণা ওরফে বন্যাকে (২১) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানাধীন বঙ্গেশ্বরদী এলাকার সৌরভ কুমার দাসের সঙ্গে ভিকটিম ঝর্ণা ওরফে বন্যার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সিদ্ধার্থ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে থেকেই ঝর্ণা তার মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন।
ঘটনার দিন সকালে ভিকটিমের মা শেফালী রানী কাজে যান। সকাল ১১টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে এসে তিনি ঝর্ণাকে ঘরের মেঝেতে চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন এবং তার বুকের ওপর বালিশ রাখা ছিল। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তার জামাই সৌরভ বালিশ চাপা দিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করেছে। পরে তিনি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা শেফালী রানী বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানায় একটি হ’ত্যা মা’মলা (মামলা নং- ০৯, তারিখ- ২১/১০/২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২ পেনাল কোড ১৮৬০) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ হ’ত্যাকারী সৌরভ কুমার দাসকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১০ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সৌরভ কুমার দাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

