সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

সাদুল্লাপুরের খোর্দ্দ মোজাহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

সাদুল্লাপুরের খোর্দ্দ মোজাহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ নম্বর খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মোজাহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, জমিদাতা সদস্যকে লোকজন লেলিয়ে দিয়ে মারধর, হুমকি, অশালীন গালিগালাজ, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানো, মাথার উকুন বাছিয়ে নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত আড়াই লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে পুরো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে জমিদাতা মো. মোস্তফা কামাল ও অভিভাবক মো. আব্দুস সবুরের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ গত ৭ জুলাই সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়েছে।

সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. সালমা আক্তার নিজের ইচ্ছামতো স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনের চেষ্টা করে আসছিলেন। পরে এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের উদ্যোগে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে অনুযায়ী গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে মনোনয়নপত্র বিক্রি এবং যাচাই-বাছাই শেষে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন হঠাৎ করে দুইজন সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. ইসরাত জাহান নিতুর উপস্থিতিতে ২১ জুন চারজন অভিভাবক সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে বাকি আটজন সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে পাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাইকে এটিওর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেন। এরপর ২২ জুন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই এবং অভিভাবক সদস্যদের উপস্থিতিতে মোট ১২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা লিখিতভাবে প্রকাশ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই দিনই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার প্রকাশিত ১২ সদস্যের তালিকা থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনজুরুল ইসলামের নাম পরিবর্তন করে তাঁর পক্ষের শিক্ষক মো. আহকাম হাবিবকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক, সদস্য ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরপর গত ৬ জুলাই সকাল প্রায় ১১টার দিকে ১২ জন সদস্যকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। সবাই উপস্থিত হলে অভিযোগ অনুযায়ী, এটিওর কথিত প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপনে তাঁদের পক্ষের সহকারী শিক্ষক মো. আহকাম হাবিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে ধাক্কাধাক্কি ও অশালীন গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার, তাঁর স্বামী জোবায়দুর, ছেলে সৌমিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য মো. মোস্তফা কামাল ও কয়েকজন অভিভাবক সদস্যকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জমিদাতা সদস্য মো. মোস্তফা কামাল ও অভিভাবক মো. আব্দুস সবুর অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সংস্কারের প্রথম ধাপের ১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপের দেড় লাখ টাকার বরাদ্দের নামমাত্র কাজ করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, তাঁদের দিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাপড় ধোয়ানো, শরীর ম্যাসাজ করানো এবং মাথার উকুন বাছিয়ে নেওয়ার মতো কাজ করাতেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে এসে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেয়।

এ সময় অসংখ্য অভিভাবক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর অপসারণের দাবি জানান।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *