ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনার স্টোররুম থেকে আনুমানিক ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ৭১ কোটি টাকার সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই বিপুল পরিমাণ এই ভারী ধাতব সরঞ্জাম গায়েব করা হয়েছে। সংসদ ভবনের নবম তলার বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলোর ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ছিল ‘এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড’।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কাজ শেষে অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার স্টোররুমে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরঞ্জামের পরিবর্তে পুরোনো কপার বার ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে।
এ ঘটনায় নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। একই কাজের জন্য ভিন্ন তথ্যসম্বলিত, স্বাক্ষরবিহীন ও তারিখহীন দুটি পৃথক সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চুরি ও অনিয়মের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ঘটনায় মাত্র পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করা উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হলেও, তিনি দাবি করেছেন তাকে কখনো স্টোরের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কাজ কম হওয়ার অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল আটকে রেখে কমিশন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার তদন্তে গঠিত চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রকৌশলীকে এই চুরি ও অনিয়মের ঘটনায় সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

