আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল থানার বিরাহিমপুর এলাকার জোড়াপুলসংলগ্ন একটি গলিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নিতেশ্বর এলাকার রাসেল মিয়া (২৬), হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কড়ানগর এলাকার সোহেল মিয়া (২৩), শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা এলাকার জুয়েল মিয়া (২৮) এবং শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখাঁন রোড এলাকার রাসেল আহমেদ (৩০)।
পুলিশ জানায়, রাত্রিকালীন কিলো ডিউটির সময় খবর পাওয়া যায়, একটি প্রাইভেটকারে করে ৪-৫ জন ব্যক্তি বিরাহিমপুরের জোড়াপুলসংলগ্ন একটি গলিতে এসে আরও কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবর পেয়ে এসআই দীপংকর হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেটকারটির সামনে ব্যারিকেড দেয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাইরে অবস্থানরত ৩-৪ জন সহযোগী পালিয়ে গেলেও গাড়ির ভেতরে থাকা চারজনকে আটক করা হয়।
আটকদের দেহ তল্লাশি করে একটি সুইস গিয়ার চাকু, একটি কাঠের হাতলযুক্ত ধারালো চাকু, একটি লোহার শাবল, একটি স্টার স্ক্রু-ড্রাইভার ও একটি ফ্ল্যাট স্ক্রু-ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-১৭৯৫ নম্বরের একটি কালো রঙের টয়োটা এলিয়ন প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা কলেজ রোড এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি, জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, মাদক ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পাঁচটি এবং সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির একটি মামলা রয়েছে বলে সিডিএমএস যাচাই করে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

