ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণা করবে। এই ঐতিহাসিক রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।
অন্যান্য দেশীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিটিভি থেকে এই সম্প্রচার নিতে পারবে বলে জানা গেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-ও সরাসরি সম্প্রচার করার অনুমতি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন:
-
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
-
রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানকালে হত্যা, নির্যাতন, নিরীহ প্রতিবাদকারীদের উপর আক্রমণ ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
রায়ের বিষয়ে আজ রোববার প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, আমরা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়েছি। আদালত ন্যায়সঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক রায় দেবেন বলে আমরা আশা করি। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন। মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁর আইনজীবীও খালাস চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান উল্লেখযোগ্য।
বহুল আলোচিত এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা এবং ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

