ঢাকা: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৬টি ইউনিট কাজ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকাগামী বেশ কিছু ফ্লাইট বিকল্প রুটে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের কার্গো ভিলেজে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৩৬টি ইউনিট এতে যোগ দেয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ জানান, কার্গো সেকশনের পাশে একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দর ফায়ার সেকশন, বিমান বাহিনীসহ বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার মাহমুদও দুপুর আড়াইটার দিকে কার্গো এলাকায় আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেন এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার কথা জানান।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সিডিউলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। দিল্লি থেকে ঢাকা আসা ইন্ডিগোর ফ্লাইট এবং শারজাহ থেকে ঢাকা আসা এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটও চট্টগ্রামে অবতরণ না করে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। হংকং থেকে ঢাকা আসা ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি বিমান অবতরণের অনুমতি না পেয়ে আকাশে চক্কর দিচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সৈয়দপুর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ না করে চট্টগ্রামে ডাইভার্ট করা হয়েছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের পর পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে এসেছে।
ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী বাটিক এয়ারের ওডি–১৬৩ ফ্লাইট এবং ঢাকা থেকে মুম্বাইগামী ইন্ডিগোর ৬ই–১১১৬ ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়েতে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পরবর্তীতে ফ্লাইট উড্ডয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

