সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

লামায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহবিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রেস কনফারেন্সে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে কীভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়িন্টাইলে- অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—বিভক্ত করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী, ৮৬০ বা তার কম স্কোরপ্রাপ্ত নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়িন্টাইলভুক্ত যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাবেন।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এ কার্যক্রমের জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইস থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকা পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সম্ভাব্য উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা:

লামা পৌরসভায় মোট সম্ভাব্য খানা ২৫ হাজার ২১৯টি। লামা উপজেলায় মোট সম্ভাব্য খানার সংখ্যা ২৮ হাজার ২৮৫টি। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৫১টি খানা রয়েছে। পৌরসভার ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ৮৩৮টি খানা রয়েছে। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বর্তমানে ১ হাজার ১০০ জন ভাতা পাচ্ছেন।

লামা উপজেলায় মোট তথ্য সংগ্রহকারী রয়েছেন ৪৩ জন এবং সুপারভাইজার রয়েছেন চারজন। লামা পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহকারী রয়েছেন ১২ জন এবং সুপারভাইজার রয়েছেন একজন।

প্রথম পর্যায়ে তিনটি ইউনিয়নের নির্ধারিত ওয়ার্ড এবং পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর, সরই ও রূপসী পাড়া। সদর ইউনিয়নের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে; সরই ইউনিয়নের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং রূপসী পাড়া ইউনিয়নের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জরিপ চালানো হবে। এ ছাড়া লামা পৌরসভার ১, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *