সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় জব্দ করা ড্রেজার মেশিন ইউএনওর ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত অফিস সহায়ক সোহেলের বাড়িতে! নিলামে চরম হট্টগোল

লামায় জব্দ করা ড্রেজার মেশিন ইউএনওর ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত অফিস সহায়ক সোহেলের বাড়িতে! নিলামে চরম হট্টগোল

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযানে জব্দ করা ড্রেজার মেশিনের উন্মুক্ত নিলামকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা ভালো মানের ড্রেজার মেশিন রাতের আঁধারে সরিয়ে সেখানে জরাজীর্ণ ও অকেজো মেশিন রেখে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, গত কয়েক মাসে লামা উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৩টি ড্রেজার মেশিন ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম জব্দ করে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন জব্দ করা ড্রেজারগুলো উন্মুক্ত নিলামে তোলার সময় নির্ধারণ করে। স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নেন। তবে উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত সরকারি মূল্যের দর না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম স্থগিত করা হয়।

নিলাম স্থগিতের পাশাপাশি জব্দ করা মালামাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ নিয়ে নিলামস্থলে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। নিলামে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম ও মো. আইয়ুব জানান, অভিযানে জব্দ করা বেশ কয়েকটি ভালো ড্রেজার মেশিন নিলামস্থলে পাওয়া যায়নি। সেগুলোর পরিবর্তে রাখা হয়েছে জরাজীর্ণ ও ছোট কয়েকটি অকেজো মেশিন।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত অফিস সহায়ক মো. সোহেল রাতের আঁধারে দুটি ভালো ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নিজের বাড়িতে রেখে সেখানে অকেজো দুটি ড্রেজার প্রতিস্থাপন করেন।

নিলাম চলাকালে অকেজো ও ভাঙাচোরা মেশিনগুলোর দাম ৪ লাখ টাকা হাঁকানো হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ভালো মেশিনগুলো কোথায়- এমন প্রশ্নে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল। পরে দুপুরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ দুটি ড্রেজার মেশিন দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এদিকে, সোহেলের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অমান্য করে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থাকারও অভিযোগ উঠেছে। বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশনার পরও প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও জানা যায়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও কাজের স্বচ্ছতা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সোহেলকে আলীকদম উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে লামাতেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মেশিন ক্রয় ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সোহেলের একটি ফোনালাপ ও অডিও রেকর্ড প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে বিভিন্ন দাপ্তরিক কিংবা সরকারি কাজের মেশিনপত্র কেনাবেচা ও লেনদেনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে অনেকে তার কাছে জবাবদিহি দাবি করছেন।

তবে ওই অডিও রেকর্ডে সোহেলকে রুবেল নামে সাবেক এক কর্মীকে ‘দুই বছর আগে মেশিন আমার ছোট ভাই কিনেছে’ এ কথা বলতে শেখাতে শোনা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে বদলির আদেশ উপেক্ষা করে বহাল থাকা, অন্যদিকে বিভিন্ন দাপ্তরিক লেনদেন নিয়ে বিতর্কের কারণে স্থানীয় প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুশাসনের স্বার্থে সরকারি বদলি আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, একই ধরনের ড্রেজার মেশিন অনেকের কাছেই থাকতে পারে। সোহেলের বাড়িতে থাকা ড্রেজারটি প্রশাসনের জব্দ করা মেশিন- এটি কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল? একটি অসাধু সিন্ডিকেট সরকারি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতেই এসব ইস্যু তৈরি করছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস জানান, লিখিত অভিযোগ বা সংবাদ প্রকাশ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *