আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): জবা ফুলের সৌন্দর্য চেনা-জানা হলেও কমলা রঙের জবা যেন সেই পরিচিত সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। উজ্জ্বল কমলা পাপড়ি, মাঝখানে গাঢ় লাল রঙের আভা আর চারপাশে হালকা সাদাটে-গোলাপি ছোঁয়া- সব মিলিয়ে ফুলটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি নজরকাড়া। ছাদবাগানের সবুজের মাঝে ফুটে থাকা এই কমলা জবা সহজেই যে কারও দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
সাধারণ জবার চেয়ে রঙ ও আকৃতির বৈচিত্র্যের কারণে কমলা জবা ফুলটি এখন সৌন্দর্যপ্রেমী ও বাগানপ্রেমীদের কাছেও বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে টব বা ছাদবাগানে ফুটে থাকা উজ্জ্বল কমলা রঙের ফুলটি সবুজ পাতার সঙ্গে তৈরি করে চমৎকার এক নান্দনিক দৃশ্য।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিজন চন্দ্র দেবনাথ জানান, ফুলটি সাধারণত কমলা জবা বা অরেঞ্জ হিবিস্কাস (Orange Hibiscus) নামে পরিচিত। এটি জবা ফুলের একটি চমৎকার হাইব্রিড বা সংকর জাত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus rosa-sinensis।
তিনি বলেন, ফুলটির মূল পাপড়িগুলো আকর্ষণীয় কমলা রঙের হলেও এর কেন্দ্রীয় অংশ বা মাঝখানে রয়েছে গাঢ় লাল রঙ। সেই গাঢ় লাল অংশকে ঘিরে পাপড়ির ভেতরের দিকে হালকা সাদাটে কিংবা গোলাপি রঙের একটি আভা দেখা যায়। রঙের এই বৈচিত্র্যই ফুলটিকে অন্য অনেক জবা ফুলের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
কমলা জবার পাপড়ির উজ্জ্বলতা রোদের আলোতে আরও বেশি ফুটে ওঠে। ফুলের মাঝখানের গাঢ় লাল অংশের সঙ্গে কমলা পাপড়ির রঙের বৈপরীত্য তৈরি করে এক অপূর্ব দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট্ট কোনো রঙিন প্রদীপ জ্বলে আছে।
জবা বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় ফুল। বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা শহরের ছাদবাগান- সবখানেই নানা রঙ ও আকৃতির জবার দেখা মেলে। তবে সংকর জাতের নানা বৈচিত্র্যময় জবা ফুল সেই পরিচিত ফুলটির সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। কমলা জবা তারই একটি দৃষ্টিনন্দন উদাহরণ।
শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদবাগান এখন অনেকের কাছেই প্রকৃতির সঙ্গে থাকার একটি সুন্দর মাধ্যম। নানা রঙের ফুলের পাশাপাশি এমন ব্যতিক্রমী ফুল ছাদবাগানের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেয়। একটি ছোট টবে ফুটে থাকা কমলা জবা তাই শুধু একটি ফুল নয়, শহুরে জীবনে প্রকৃতির সৌন্দর্যের এক টুকরো বার্তাও বহন করে।
ছবিটি মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস রোডের কল্লোল দেবের বাসার ছাদবাগান থেকে তোলা।

