বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ‘লামা রিকশাচালক সমবায় সমিতি লিঃ’ (রেজিস্ট্রেশন নং-০৪ বা/বান)-এর বৈধতা প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি এবং সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সমিতিকেন্দ্রিক একটি চক্রের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে ঘুষ দাবির অভিযোগ:
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) লামা বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তাঁরা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত কমিটিকে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়ার বিনিময়ে লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করছেন। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় আইনানুগভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
জাল রসিদে চাঁদা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সমবায় কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমিতির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া, সহসভাপতি মো. মোজাম্মেল উদ্দিন (পিতা: সাইফুল ইসলাম, কলেজ গেট এলাকা), সদস্য মাইনুদ্দিন, হাবিল মিয়া ও মো. সুরুজ মিয়া পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে বিকল্প রসিদ বই ছাপিয়ে ভুয়া রসিদের মাধ্যমে সাধারণ রিকশাচালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা ও সঞ্চয় আদায় করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা না করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে আত্মসাৎ করছেন এবং সাধারণ সদস্যদের কোনো আর্থিক হিসাব প্রদান করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেনকে তাঁদের পদের বৈধতা দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।
নেতৃবৃন্দ জানান, সমবায় কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমিতি পরিচালনায় নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হয়রানি করে আসছেন। অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করায় সমিতি পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সাধারণ রিকশাচালকরা অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে সমিতিকে রক্ষা করতে বর্তমান বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তার:
এ বিষয়ে লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার টাকা দাবি করার বিষয়টি সত্য নয়। তাঁদের মধ্যে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। বর্তমান কমিটি এজিএমের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ সংস্কার করেছে। অভিযোগের বিষয়ে আমার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দেওয়া হয়নি।’

