সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

যে জাল থেকে রেহাই পাচ্ছে না জলজীবন, নলডাঙ্গায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব!

যে জাল থেকে রেহাই পাচ্ছে না জলজীবন, নলডাঙ্গায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব!

নলডাঙ্গা (নাটোর): মহামারি আকার ধারণ করেছে অবৈধ চায়না দুয়ারি, বাদাই ও কারেন্ট জালের ব্যবহার। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নাটোরের হালতিবিলসহ বিভিন্ন বিলে চলছে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব।

এই অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিলের পানিতে রাত-দিন প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, বাদাই জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন করছে কিছু অসাধু জেলে। এর ফলে একদিকে যেমন মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার কারণে বিলের জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে।

একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্রটি। সন্ধ্যার পরপরই উপজেলার মাধনগর থেকে বেশ কয়েকটি নৌকা বাদাই, চায়না দুয়ারিসহ বিভিন্ন ধরনের জাল নিয়ে মাছ নিধনের উদ্দেশ্যে বিলে চলে যায়।

হালতিবিলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিলে নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ জাল ফেলে মাছ শিকার করছে। বাদাই ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে পোনা মাছ ধরছে তারা।

ভোরের আলো ফোটার আগেই হালতিবিলের মাধনগর, পাটুলসহ বিভিন্ন বাজারে জেলেদের জালে ধরা ছোট ছোট পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আসতে শুরু করে। নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পোনা মাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্রের প্রভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চলছে।

দেশে যেসব জাল দিয়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ, তার মধ্যে অন্যতম চায়না দুয়ারি জাল। মিহি ফাঁসের এই জাল পেতে হালতিবিলের বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করছে জেলেরা। নাম জাল হলেও চায়না দুয়ারি মূলত এক ধরনের মাছ ধরার ফাঁদ। এতে পুঁটি, টেংরা, শোল, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা আটকা পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব জালে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে হালতিবিলের প্রাণবৈচিত্র্য।

স্থানীয় এলাকাবাসী পাভেল শেখ, রাশেদ আলম ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বুলবুলসহ অনেকে বলেন, হালতিবিলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিলে নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ জাল ফেলে মাছ শিকার করছে। বাদাই ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরছে তারা। ভোরের আলো ফোটার আগেই বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ জালে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মারা পড়ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে হালতিবিলের প্রাণবৈচিত্র্য।

তারা আরও বলেন, এসব অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে হালতিবিলের মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করে হালতিবিলসহ উপজেলার অন্যান্য খাল, বিল ও নদী রক্ষার দাবি জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খান ও নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, মৎস্য আইন বাস্তবায়নে অবৈধ জাল উচ্ছেদসহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *