মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক নারী তার দুই সন্তানকে কীটনাশক খাইয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন, হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী দেওয়ান শাহীন আহমেদের স্ত্রী শেখা আক্তার (২৯), তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভি এবং এক বছর বয়সী মেয়ে সায়মা। তারা পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রাহাত সালমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়ির দরজায় সাড়া না পাওয়ায় তারা বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন শেখা আক্তারের লাশ বিছানায় এবং দুই শিশুর লাশ খাটের নিচে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃতদেহের পাশ থেকে কীটনাশকও জব্দ করা হয়।
তার মামা আমিনুল জানান, নিহত শেখার স্বামী শাহীন এক মাস আগে মালয়েশিয়া গিয়েছেন। এটি শাহীনের দ্বিতীয় বিয়ে এবং শেখারও দ্বিতীয় বিয়ে। পাঁচ বছর আগে শাহীন শেখাকে তার প্রথম পক্ষের সন্তান আলভীকে নিয়ে বিয়ে করেন। সায়মা তাদের বর্তমান সংসারের সন্তান।
স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরেই শেখা আক্তার এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে স্বামী দেওয়ান শাহীন আহমেদ দাবি করেন, তাদের সংসারে বড় কোনো কলহ ছিল না। তিনি জানান, তার স্ত্রী কিছুটা বদমেজাজী ছিলেন এবং প্রায়ই আত্মহত্যার হুমকি দিতেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। পারিবারিক কলহের কারণেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

