মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক বিক্রি ও অসামাজিক কার্যকলাপে বাধা দেওয়ায় কামরুল ইসলাম মধু মেম্বার নামে এক বিএনপি নেতার ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত কামরুল ইসলাম মধু সালুয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের মধ্য সালুয়া আনামুখধোয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে মো. রাসেল ও তাজুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের সমাজবিধ্বংসী মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চক্রটি এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনা এবং একাধিক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটির বিরুদ্ধে বারবার পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কামরুল ইসলাম মধু মেম্বার নিজ বাড়ি থেকে ডুমরাকান্দা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আনামুখধোয়া বাজারে পৌঁছালে মাদক ব্যবসায়ী রাসেলসহ চক্রের কয়েকজন সদস্য তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার পর মধু মেম্বার নিজেই বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রুত মাদক চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং মাদকের বিস্তার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
এদিকে সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান তার ফেসবুক পেজে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও সোচ্চার হওয়া দরকার। আজ কামরুল ইসলাম মধু মেম্বার প্রতিবাদ করায় মাদক ব্যবসায়ীরা তার ওপর হামলা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, হামলার ঘটনার আগে তিনি নিজে এবং একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ফোর্স নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িসহ ওই এলাকার মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে অভিযানের সময় কাউকে পাওয়া যায়নি।
মধু মেম্বারের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসআই সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কামরুল ইসলাম মধু মেম্বারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা হামলা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুতই তারা গ্রেপ্তার হবে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি কুলিয়ারচর থানার ওসিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

