সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট, কালের বার্তা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ: গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আফসার হোসাইন তুর্জ (Afsar Hossan Turza) নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধরকে উদ্দেশ্য করে একটি লেখা পোস্ট করা হয়।

লেখাতে আফসার হোসাইন তুর্জ উল্লেখ করেন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ডা. কিশোর কুমার ধরকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন না। এমনকি অফিসে গিয়েও অধিকাংশ সময় তাঁকে পাওয়া যায় না। এতে করে ঐ ওয়ার্ডের নাগরিকরা সেবা পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তাঁর প্রতি উত্তরে একজন মন্তব্য করেন, খুবই দুঃখজনক। আমিও ৫ দিন ঘুরেছি তাঁর পেছনে। একবার পৌরসভা, আরেকবার উপজেলায়। উপজেলায় গেলে পরে বলেন, ‘আগামীকাল চণ্ডীবের হাসপাতালে। দেশে যতদিন না গণমানুষের নেতা না আসবে, ততদিন কষ্ট করতে হবে। কি আর করব!’

এর আগে, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর আজীবন সদস্য ডা. কিশোর কুমার ধর ডি.জি. অফিসকে ম্যানেজ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বন্দরনগরী ভৈরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ নেওয়ায় সুশীল সমাজের মাঝে আলোচনার ঝড় উঠেছে– এমন মন্তব্য করে “ভৈরব কুলিয়ারচর নাগরিক ঐক্য ফোরাম” নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি https://www.facebook.com/share/15iKccZkUr/ লিংক-এর মাধ্যমে একটি লেখা পোস্ট করা হয়েছিল। যা অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এই লেখায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ডা. কিশোর কুমার ধর নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কিভাবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে ভৈরবের সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠেছিল। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সকল চিকিৎসক যখন আত্মগোপনে, সেখানে ডা. কিশোর কুমার ধর স্বাচিপের আজীবন সদস্য হয়ে কিভাবে ভৈরবের মতো জনবহুল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন?

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ডা. কিশোর কুমার ধর নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কিভাবে নিয়োগ পেলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সকল ডা. যখন আত্মগোপনে, সেখানে ডা. কিশোর কুমার ধর স্বাচিপের আজীবন সদস্য হয়ে কিভাবে ভৈরবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পদোন্নতি পান? তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের ছবি দেখে কারওই বুঝার বাকি নেই যে, তিনি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও দালাল ছিলেন। তাঁর কিছু ফাইল ছবিতে এসব তথ্য ফুটে উঠেছে।

বর্তমান সরকার যেখানে সংস্কার করতে গিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও দালালদের উচ্ছেদ করতে মাঠে নেমেছে, সেখানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ডা. কিশোর কুমার ধর ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা নিয়ে ভৈরবের জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। এ রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছেন অনেকেই।

ডা. কিশোর কুমার ধর গত ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এবিএম আবু হানিফের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার গোপদিঘী ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিজ জন্মভূমি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

কিশোর কুমার ধর ১৯৮৮ সালের ৪ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নিজ বাড়ি ভৈরব পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায়। বাবার নাম গোপাল ধর। তিনি একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। মা দীপা সাহা একজন প্রধান শিক্ষিকা। ডা. কিশোর কুমার ধর ২০০৫ সালে ভৈরব সরকারি হাজী আসমত কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১২ সালে সিলেট উসমানী কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ও ইন্টার্নি করেন। ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএস-এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর নিয়মিত অফিস করেন না। সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে প্রায় সময় সকাল ১০-১১টার দিকে অফিসে আসেন তিনি। আবার দুপুর ১টার দিকেই কর্মস্থল ত্যাগ করে চলে যান। আবার অনেক সময় তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায় না। তাঁকে প্রয়োজনে কল করেও পাওয়া যায় না। তাঁর দায়িত্ব অবহেলায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অনেকে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, যেহেতু তিনি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক পোস্ট দখল করে আছেন, সেহেতু প্রতিদিন তাঁর নিজ স্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার তাঁর পূর্বের কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত থেকে তাঁর দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে আসছেন। এতে করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ছবিতে- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন (এমপি)-এর পিএস সাখাওয়াত হোসেন মোল্লা-এর বাম পাশে ডা. কিশোর কুমার ধর।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *