সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

ভৈরবে সাংবাদিক মিজানুর রহমান পাটোয়ারীকে প্রাণনাশের হুমকি

ভৈরবে সাংবাদিক মিজানুর রহমান পাটোয়ারীকে প্রাণনাশের হুমকি

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী’কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী (৪১) ‘দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি ও স্থানীয় ‘দৈনিক গৃহকোণ’-এর নিজস্ব প্রতিনিধি এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর পরিচালক। তিনি ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর (পূর্ব) মহল্লার খলিল পাটোয়ারী বাড়ির মো. মজিবুর রহমান আবু মিয়া ও মোছা. রোকেয়া বেগম দম্পতির ছেলে।

সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, গত ১২ অক্টোবর ভৈরব উপজেলার টুকচানপুর গ্রামের রহিম মিয়া (৩০), রহিম মিয়ার বাবা মোস্তফা মিয়া (৫৯), মা মনোয়ারা বেগম (৫১) ও একই উপজেলার কালিপুর (বাদশাবিল) গ্রামের সালাম মিয়ার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৫০), ছেলে সরমিন মিয়া (২৫) ও আসিফ মিয়া (২১)-এর বিরুদ্ধে ভৈরব পৌরশহরের কমলপুর পূর্ব পাড়া মহল্লার শ্যামল মিয়ার কন্যা ও রহিম মিয়া স্ত্রী ছাবরিনা বেগম রুমকি (২০) বাদী হয়ে গত ১২ অক্টোবর রোববার ২০০০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ১১(গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬।

মামলা রুজু হওয়ার পর র‍্যাব-১৪ (সিপিসি-৩) ভৈরব ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল গত ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি রহিম মিয়াকে গ্রেফতার করে পরদিন ২২ অক্টোবর বুধবার ভৈরব থানায় হস্তান্তর করলে থানা পুলিশ রহিম মিয়াকে কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী উক্ত মামলার ১নং সাক্ষী ও বাদী সাবরিনা বেগম রুমকি’র আপন মামা হওয়ায় ওই মামলার বিবাদী কালিপুর (বাদশাবিল) গ্রামের সালাম মিয়ার ছেলে সরমিন মিয়া (২৫), আসিফ মিয়া (২১) ও সালাম মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরোজা বেগম (৫০) সহ অন্যান্য বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে তাঁকেসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বাদী হয়ে গত ২৩ অক্টোবর ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি নং- ১০৭৭।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর ভৈরব উপজেলার টুকচানপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়া ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে মো. রহিম মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ছাবরিনা বেগম রুমকি’র। বিয়ের সময় রুমকি’র পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক হিসেবে স্বামী রহিম মিয়াকে নগদ ২ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা) ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়।

বিয়ের পর থেকে স্বামী রহিম মিয়া, তাঁর বাবা মোস্তফা মিয়া, মা মনোয়ারা বেগম, মামী আফরোজা বেগম, মামাতো ভাই সরমিন মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা এনে দিতে পারবেন না জানালে রুমকির ওপর চলতে থাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বামী রহিম মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাবার বাড়ি থেকে আরও ৫ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন। তিনি টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে প্রথমে রহিম মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন, পরে রহিম মিয়াসহ তাঁর বাবা মোস্তফা মিয়া, মা মনোয়ারা বেগম, মামী আফরোজা বেগম, মামাতো ভাই সরমিন মিয়া (২৫) ও আসিফ মিয়া (২১) মিলে রুমকি’র গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি, এরপর তারা লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরসহ তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে তাঁকে গুরুতর আহত করে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা জখম হয় এবং তলপেটে আঘাত পেয়ে মারাত্মক রক্তপাত হয়। আহত রুমকিকে চিকিৎসা না করিয়ে তারা সবাই মিলে রুমকি’র শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খুলে রেখে দিয়ে তাঁকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

ভুক্তভোগী রুমকি বলেন, “বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে আমাকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্য তারা আমাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে। অবশেষে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *