সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

ভারতের আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হয়েছে ঘরবাড়ি ও ১০টি মসজিদ

ভারতের আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হয়েছে ঘরবাড়ি ও ১০টি মসজিদ

ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে গত দুই দিনে এক হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এসব অভিযান চালানো হয়।

সিয়াসাত ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে। পরদিন নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদের শিকার বাসিন্দাদের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্রিটিশ আমলের ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল নূরের অভিযোগ, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রতিকার পায়নি। গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ ব্যক্তিগত বসবাসের দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লুটুমারি এলাকায় গত বছরের নভেম্বরেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল, যাতে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া হোজাই ও গোলাঘাট জেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর ভূমির অধিকার ও পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *