ভাঙ্গা (ফরিদপুর): ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই বিক্ষোভ চলাকালে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, নির্বাচন কার্যালয় এবং থানায় হামলা চালানো হয়। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে, বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ ও থানায়, ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা থানার বেশ কয়েকটি গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল এবং উপজেলা পরিষদের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ হঠাৎ করে সড়ক-মহাসড়কে নেমে আসে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে একত্রিত করা হয় এবং দুটি মহাসড়কের অন্তত ছয়টি স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এবং দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। এসময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলার মুখে ১০-১২ জন আর্মড পুলিশ সদস্য পাশের ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে অনেক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে মাদরাসা ও মসজিদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের রক্ষা করেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা থানার দিকে এগিয়ে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশ সদস্যদের ভেতরে আটকে রাখে। পরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, হাইওয়ে অফিস এবং পৌরসভা কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়।
এই বিক্ষোভের মূল কারণ হলো গত ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস। এই গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত পাঁচদিন ধরে স্থানীয় জনতা দফায় দফায় দুটি মহাসড়ক, দুটি রেলপথ এবং ঢাকা-মাওয়া ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে আসছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন এবং আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রতিবেদন চেয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দুই-এক দিনের মধ্যে একটি সমাধান হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

