বাংলাদেশের কুষ্টিয়া অঞ্চলে ইক্ষু (আখ) চাষের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি হলেও বর্তমানে এর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কমে আসছে। জলবায়ু ও মাটির উপযুক্ততা থাকলেও সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় কৃষকরা এ ফসল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কুষ্টিয়া অঞ্চলে ইক্ষু চাষের বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো-
১. ইতিবাচক দিক (প্রাকৃতিক সম্ভাবনা)
অনুকূল আবহাওয়া:
ইক্ষু চাষের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং অন্তত ১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিদ্যমান।
মাটি:
এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ:
তরুণ উদ্যোক্তা ও যুবকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে আখ চাষে সফল হচ্ছেন।
২. নেতিবাচক দিক (চ্যালেঞ্জসমূহ)
সুগার মিল বন্ধ:
২০২০ সালে কুষ্টিয়া সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে আখ চাষ দ্রুত হারে কমছে।
চাষিদের আগ্রহ হ্রাস:
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়া এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা আখ চাষে বিমুখ হচ্ছেন।
উৎপাদন কমে যাওয়া:
এক সময় এই অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও তা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি:
আখের পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি এবং কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান সম্ভাবনা
কুষ্টিয়া অঞ্চলে শিল্পভিত্তিক (মিল-নির্ভর) আখ চাষের সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় নেই বললেই চলে। তবে স্থানীয়ভাবে গুড় উৎপাদন বা কাঁচা আখ বিক্রির (ডাইরেক্ট মার্কেটিং) জন্য কিছু এলাকায় এখনো আখ চাষ হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু চাষি লাভবান হলেও বৃহৎ পরিসরে আখ চাষে এখন তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়া জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ২,৮৫,০৬৮ একর। এর মধ্যে কতটুকু জমিতে আখ চাষ করা যাবে তা নির্ভর করে জমির বর্তমান ব্যবহার, কৃষকদের আগ্রহ এবং চিনিকলের পরিস্থিতির ওপর।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় প্রায় ১,৪৬৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। অন্য একটি তথ্যে প্রায় ৯০১ হেক্টর জমিতে আখ চাষের উল্লেখ রয়েছে, যা একর হিসেবে প্রায় ২,২৩৭ একরের সমান।
যদিও উপযুক্ত জমির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন, তবে বাংলাদেশের চরাঞ্চল বা যেখানে তামাকের চাষ হয়- সেসব জমিকে আখ চাষের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

