বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং এর সুফল তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনের অগ্রগতি তুলে ধরে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচির দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটছে- এমন তথ্য তুলে ধরে বান্দরবানের লামা তথ্য অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বুধবার (১৩ মে) এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহার কেবল একটি নথি নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়নের একটি দর্শন। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকা উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য ও সার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি ঋণ মওকুফের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি প্রদান, পরিবেশ সংরক্ষণে খাল খনন, পুনঃখনন এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মজীবী ও সাধারণ নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
১৮০ দিনের বিশেষ প্রচার কর্মসূচি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশজুড়ে ৬৮টি তথ্য অফিসের মাধ্যমে “সবার আগে বাংলাদেশ” মূলনীতির আলোকে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের খতিয়ান প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।
লামা-আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেক্ষাপট
লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি- এই পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অঞ্চলের কৃষকদের আধুনিকায়নে কৃষক কার্ড বিতরণ এবং দুর্গম এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন ও বনায়ন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনসম্পৃক্ততা ও আগামীর ভাবনা
তথ্য অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কর্মসূচি জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছানোর ফলে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। নৈতিকতা ও উন্নয়ন বিষয়ক সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ সমাজকেও এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এই উন্নয়নচিত্র বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সরকারের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে পারে।
সহকারী তথ্য অফিসার মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মঈন উদ্দিন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল হামিদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন লামা প্রেস ক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা রিপোর্টার্স ক্লাব-এর সভাপতি ও মানবজমিন প্রতিনিধি মো. তৈয়ব আলী, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সাঙ্গু প্রতিনিধি বেলাল আহমদ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নুর মোহাম্মদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি চৌধুরী মো. সুজন, আব্দুল করিম, হিল গ্র্যাজুয়েট প্রেস ক্লাব-এর সভাপতি আদহাম বিন ইব্রাহীম, সিনিয়র সহ-সভাপতি, আমার দেশ প্রতিনিধি নুরুল করিম আরমান, গিরি দর্পণ প্রতিনিধি এসকে খগেশ প্রতি, জাগোরণ নিউজের নজরুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

