সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

ফুল ও ক্রেস্টে ভাসল মেধাবীরা, প্রেরণার আলো ছড়ালেন রত্নগর্ভা মায়েরা; আমোদপুরে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

ফুল ও ক্রেস্টে ভাসল মেধাবীরা, প্রেরণার আলো ছড়ালেন রত্নগর্ভা মায়েরা; আমোদপুরে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): মেধার জয়গান আর মাতৃত্বের ত্যাগের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আমোদপুর। শিক্ষার দীপশিখা ছড়িয়ে দিতে এবং উদীয়মান তরুণ মেধাবীদের নতুন উদ্যমে অনুপ্রাণিত করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’-এর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থী ও তাদের সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর ‘সফল মায়েদের’ সম্মাননায় সিক্ত করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আমোদপুরে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’-এর কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার শুভসূচনাতেই সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। পঞ্চম শ্রেণির ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভালোবাসার শুভ্র ফুল ও স্মারক ক্রেস্ট। তবে আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে, যখন সুশিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে সন্তানদের এতদূর এগিয়ে নেওয়া সেই রত্নগর্ভা মায়েদের মঞ্চে ডেকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’-এর সভাপতি গাজী মোস্তাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভৈরবে প্রতিষ্ঠিত আরাফাত কেমিক্যাল ওয়ার্কস (বস্ মশার কয়েল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাপ্তাহিক সোনালী ধারা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দৈনিক এশিয়া বাণী পত্রিকার কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি এবং শিক্ষানুরাগী মো. ইয়াছিন আরাফাত।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আয়োজনের রূপ বাড়িয়ে দেন ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এ ছাড়াও আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির, আমোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম কাজল, সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সহ এলাকার সুধীজন, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সংগঠনের প্রাণোচ্ছল সদস্যরা পুরো আয়োজনজুড়ে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মেধাবীদের পথচলাকে সুগম করতে এমন স্বীকৃতি সময়ের দাবি। তবে সন্তানদের এই অর্জনের পেছনে মায়েদের যে নীরব ত্যাগ রয়েছে, সেটিকে প্রকাশ্যে সম্মানিত করার এই ধারা সমাজে এক অনন্য মানবিক মূল্যবোধের সূচনা করল।

সংগঠনের নেতারা জানান, এটি কেবল একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানই নয়; বরং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক ব্রত। ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, আমোদপুর’ দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী প্রদান, মানবিক সহায়তা, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও নারী উন্নয়নের মতো নানাবিধ সামাজিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে।

অনুষ্ঠানে আসা অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, মেধার এই সঠিক মূল্যায়ন এবং মায়েদের প্রতি এমন বিরল সম্মাননা এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে ও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে। পুরো আমোদপুর গ্রাম যেন এই একটি আয়োজনে নতুন সম্ভাবনার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *