সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

প্রাণী সংরক্ষণে নাটোরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন

প্রাণী সংরক্ষণে নাটোরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন

মনিরুল ইসলাম, নলডাঙ্গা (নাটোর): “দেশ হোক সকল প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল, প্রাণী শিকারকে না বলুন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) তাদের কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত করছে। সারাদেশে প্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ফজলে রাব্বীর নেতৃত্বে নাটোর জেলায় ‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া)’-এর নাটোর শাখা কমিটি কাজ শুরু করেছে।

প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নাটোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাণীকুলের কল্যাণে নিবেদিত এই সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সম্প্রতি সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের একটি দল নাটোরের বিভিন্ন গ্রাম, ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রাণীকুলের জন্য এ ধরনের সেবামূলক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী, বিএনপি নেতা মিঠুন দেবনাথ, নলডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা মাকসুদুর রহমান সুবির, তারেক জিয়া পরিষদের নলডাঙ্গা উপজেলা সদস্যসচিব কাজী শাহারিয়ার আহমেদ সিহাব, যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম নান্টু রাজ, তরিকুল ইসলাম টিটু, আখতার সরকার, আকবর আলী, বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম, শুকুর আলী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ আলম, বিল্লু সরদার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদুল ইসলাম অমি, পরিবেশকর্মী শৌমিক, মিজানুর রহমান, শাকিল আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা স্থানীয় জনগণকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসার এবং প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডগুলোতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, আটক, ক্রয়-বিক্রয়, দখলে রাখা, পাচার, ভক্ষণ এবং কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীকে নির্মমভাবে হত্যা ও নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ড যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

এছাড়া উল্লেখ করা হয় যে, পরিযায়ী পাখি (অতিথি পাখি) আমাদের বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন, ফুল ও শস্যের পরাগায়ন এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাইনবোর্ডে আরও তুলে ধরা হয় যে, ১৯৭০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫২ শতাংশ বন্যপ্রাণী হারিয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়া ক্রমেই ত্বরান্বিত হচ্ছে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের বৈচিত্র্যময় প্রাণীসম্পদের একটি বড় অংশ চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

“বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ রক্ষায় প্রাণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ করুন” এমন সচেতনতামূলক বার্তাও প্রচার করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে আহত প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা প্রদান, খাদ্য বিতরণ এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এ উদ্যোগ প্রাণী সংরক্ষণে দেশব্যাপী ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। প্রাণীকল্যাণে অবদানের জন্য তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *