সর্বশেষ :
24 Oct 2026, Sat

প্রশাসন নাকি বালু ব্যবসায়ী প্রকাশ- কার প্রভাব বেশি? নবাবগঞ্জে অবৈধ বালু ব্যবসায় জনদুর্ভোগ চরমে

প্রশাসন নাকি বালু ব্যবসায়ী প্রকাশ- কার প্রভাব বেশি? নবাবগঞ্জে অবৈধ বালু ব্যবসায় জনদুর্ভোগ চরমে

নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সুজাপুর এলাকার বাসিন্দা প্রকাশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের পাইপ বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। এতে ফসলি জমি, সড়ক ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কখনো ফসলি জমিতে মিনি ড্রেজার বসিয়ে পুকুর খনন ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, আবার কখনো বর্ষা মৌসুমে সড়কের ওপর পাইপ স্থাপন করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে, সড়কে পাইপ বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

বর্তমানে নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের একাধিক স্থানে সড়কের ওপর পাইপ বসিয়ে বালু পরিবহনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নয়নশ্রী ইউনিয়নের পুরান তুইতাল খেজুরবাগান-সংলগ্ন সড়কে পাইপ স্থাপনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় তাঁদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন, জনসাধারণের চলাচলের সড়কে এভাবে পাইপ স্থাপন করে বালু পরিবহনের কার্যক্রম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে কীভাবে?

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও দৃশ্যমান প্রতিকার না পাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসন কি তবে এই বালুখেকোর চেয়ে ক্ষমতায় ছোট? তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কোনো কার্যক্রম চলতে থাকলে তা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকাশের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন আর ওই স্থানে আমার কোনো পাইপ নেই। সব পাইপ খুলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সড়কে পাইপ রয়েছে। ফলে পাইপ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সরেজমিনে পাওয়া তথ্যের অসংগতি দেখা গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সড়কে পাইপ স্থাপন এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের পথ থেকে প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।

এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন- আর কত দিন এভাবে জনদুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *