সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

প্রতিবন্ধী লাইজুর প্রতিবন্ধকতা জয়

প্রতিবন্ধী লাইজুর প্রতিবন্ধকতা জয়, কালের বার্তা

আকতার হোসেন বকুল (জয়পুরহাট): লাইজু জন্মগ্রহণ করেন প্রতিবন্ধী হয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর। একই এলাকার কোনা মিয়া পেশায় একজন সাইকেল মেকার। কোনার স্ত্রী ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে হঠাৎ মারা যান। ছোট সন্তানদের দেখভাল করার জন্য কোনা মিয়া প্রতিবন্ধী লাইজুকে বিয়ে করেন। এ যেন লাইজুর জীবনে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।

৯০ দশকের শেষ ভাগে তাঁরা জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী বাগজানার চৌমুহনী মোড়ের বাজার আটাপাড়া ব্রিজের পশ্চিমে রাস্তার পাশে কোনো রকমভাবে বসবাস শুরু করেন। কোনা সাইকেল মেরামতের কাজ করলেও সংসারের আয় বাড়াতে লাইজুও হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকেননি। হাঁটাচলা করতে না পারলেও সে ভ্যান যোগে সীমান্ত এলাকা থেকে লবণ, চিনি, কসমেটিকস ও শাড়ি কাপড় পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট শহরে নিয়েছেন। এরই মধ্যে লাইজু আবার দুটি সন্তানের জন্ম দেন। সতীন মারা যাওয়ার পর বিয়ে হয়। সতীনের ঘরেরসহ মোট ৬ সন্তান লালন-পালন করতে হয়। সন্তানগুলোকে অতিকষ্টে বড় করে প্রায় সবাইকে টাকা-পয়সা খরচ করে বিয়ে দিয়েছেন।

আজ থেকে ৯ বছর আগে স্বামী কোনা মেকার মারা গেলে তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর নিজের ছোট মেয়ের বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাঁকে। স্বামীর মেকারি ও লাইজুর লবণ-চিনি ব্যবসার টাকা দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য জমি কিনে ছিলেন। সেই জমি সতীনের ও নিজের সন্তানদের সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছেন লাইজু।

বর্তমানে সতীনের ছেলের ঘরে বসবাস ও খাওয়া-দাওয়া করলেও এখনো নিজে উপার্জন করেন। আটাপাড়া বেলী ব্রিজের নীচে ছোট্ট একটা টঙের দোকান দিয়ে বসেছেন। হাঁটাচলা করতে না পারায় ডিসি অফিসে চাকরি করা স্থানীয় এক যুবক তাঁকে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *