সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

নলডাঙ্গায় ডুমুরগাছে ঝুলছে হাঁড়ি-পাতিল, রোগমুক্তির আশায় ছুটছে মানুষ!

নলডাঙ্গায় ডুমুরগাছে ঝুলছে হাঁড়ি-পাতিল, রোগমুক্তির আশায় ছুটছে মানুষ!

মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার (নাটোর): নাটোরের নলডাঙ্গায় একটি ডুমুরগাছের ডালে ডালে ঝুলছে হাঁড়ি-পাতিল। সেই গাছের কাটা ডাল থেকে বের হওয়া পানি পান করলে নাকি বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মেলে- এমন বিশ্বাসকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষের রোগব্যাধি ও নানা শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকে। সুস্থতার আশায় কেউ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, কেউবা কবিরাজের কাছে যান। কিন্তু কোনো গাছের ডাল থেকে বের হওয়া পানি পান করেই যদি রোগমুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই! এমনই এক বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা উত্তরপাড়া গ্রামে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই এলাকার একটি ডুমুরগাছের ডাল কাটা হয়। এরপর কাটা ডাল থেকে পানি বের হতে শুরু করে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে গাছের ডালে হাঁড়ি-পাতিল বেঁধে সেই পানি সংগ্রহ করা শুরু হয়। পরে ওই পানি পান করলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়- এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে নানা কথা। কেউ লোকমুখে শুনে এসেছেন, আবার কেউ দাবি করছেন, তাঁদের শারীরিক সমস্যায় এই পানি পান করে উপকার পেয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই পানি পান করলে রোগমুক্তির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। এমন ধারণা থেকে প্রতিদিনই সেখানে ছুটে আসছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম অমি, রায়হান মিনা, সুলতান খান, সেকেন্দারসহ অনেকে জানান, বাঁশিলা গ্রামের উত্তরপাড়ায় ডুমুরগাছের ডাল কাটার পর আঠার পরিবর্তে পানির মতো তরল বের হতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসার পর গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় দুই হাঁড়ি পানি সংগ্রহ করা যায়। সেই পানি পান করে বিভিন্ন এলাকার কিছু মানুষ ব্যথাসহ নানা সমস্যায় উপকার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে গাছের মালিকের বাড়িতে পানি সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।

এদিকে, গাছের পানি পান করে রোগমুক্তির এমন দাবির বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো স্বীকৃত ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জুনায়েদ আহমেদ লেলিন বলেন, এটি মানুষের অন্ধবিশ্বাস বা ভ্রান্ত ধারণা। এই পানি পান করলে অসুখ-বিসুখ বা রোগব্যাধি ভালো হয়ে যায়—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা ভিত্তি নেই। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিতে হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের কুসংস্কার ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এমন অপরীক্ষিত পানি পান না করে প্রয়োজনে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *