তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির অভিযোগে ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল (৫৫) নামে এক মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘেরমালিক বিশ্বনাথ ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার ভোররাতে জেয়ালা উত্তরখোলা সরকারি বিলের বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে মৎস্যজীবী ক্ষিতিশ মণ্ডলকে আটক করেন ঘেরের কর্মচারী গফ্ফারসহ কয়েকজন। এ সময় মৃত গোকুল ঘোষের ছেলে বিশ্বনাথ ঘোষ, মৃত জগন্নাথ ঘোষের ছেলে শিমুল ঘোষ, মোজাল গাজীর ছেলে হাবিবুর গাজী, মুজদিন খাঁর ছেলে ইব্রাহিম খাঁ, সমর ঘোষসহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং মারধরে তাঁর হাত-পা ভেঙে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ক্ষিতিশ মণ্ডলের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী পার্থ মণ্ডল, প্রকাশ মণ্ডলসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ক্ষিতিশের দুই পা ও হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর মুখে ও চোখের নিচে বড় ধরনের ক্ষত ছিল। এ ছাড়া মাথার তালুতে ধারালো দা দিয়ে চারটি কোপ দেওয়া হয়। মাথার গভীর ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল বলেন, “আমার স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে বিলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি। তখনো তিনি কথা বলতে পারছিলেন। তিনি আমাকে জানান, ঘেরের কর্মচারী গফ্ফার, বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, হাবিবুর গাজী, ইব্রাহিম খাঁ, সমর ঘোষসহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছেন। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে এবং হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে সকালে তালা হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তিনি মারা যান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তালা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষিতিশ মণ্ডলকে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। এরই মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

