জেলা প্রতিনিধি (নাটোর): নাটোরের নলডাঙ্গায় ধার নেওয়া দুই লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় এক আনসার-ভিডিপি দলনেতাকে হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে হত্যার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পূর্ব মাধনগর মৃধাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনসার-ভিডিপি ওয়ার্ড দলনেতা মো. মিজানুর রহমান (৩৩) বাদী হয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নলডাঙ্গা থানায় দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন পূর্ব মাধনগর মৃধাপাড়া গ্রামের মো. মফিজ সরকারের ছেলে মো. শরিফ সরকার (৪৫) এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. মানছুরা বেগম (৩৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সাংসারিক প্রয়োজনের কথা বলে অভিযুক্ত দম্পতি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুই মাসের জন্য দুই লাখ টাকা ধার নেন। সরল বিশ্বাসে মিজানুর রহমান একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাঁদের ওই টাকা দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নানা টালবাহানা করে আসছিলেন।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মিজানুর রহমান নলডাঙ্গা থানাধীন পূর্ব মাধনগর গ্রামের কদমতলি ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন অভিযুক্তদের টং দোকানে গিয়ে বকেয়া টাকা ফেরত চান। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
একপর্যায়ে মানছুরা বেগম হাতে থাকা বাঁশের লাঠি এবং শরিফ সরকার ধারালো হাসুয়া নিয়ে মিজানুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণভয়ে মিজানুর রহমান দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনার সময় তাঁর ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন ওরফে ভুলু, আছির সরদার, আনোয়ার হোসেনসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের ডাকলেও তাঁরা উপস্থিত না হয়ে উল্টো তাঁদের অপমান করেন বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার না পাওয়ায় এবং পরামর্শ করতে গিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর পাওনা টাকা উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

