দোহার (ঢাকা): জাতীয় সম্পদ জিআই পণ্য মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঢাকার দোহার উপজেলা প্রশাসন প্রমত্ত পদ্মায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) পদ্মা নদীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ১৮ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৯ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
ইলিশের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ০৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এলাকার সবাই যাতে আইন মেনে চলে এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করে, সেই প্রত্যাশা নিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুন খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দোহারের মুকসুদপুর, নারিশা, মেঘুলা বাজার ও মৈনট ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ শিকার করার সময় বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১৮ জন জেলেকে আটক করা হয়।
আটককৃত ১৮ জন জেলেকে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১৯ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, এসময় জব্দ করা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় হোস্টের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিরীন সুলতানা মুন্নী ও তার টিম। অভিযানে কুতুবপুর নৌ পুলিশের সদস্যরাও সহায়তা করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পদ্মা নদীতে তাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। সকলের প্রতি সরকারের এই আইন মেনে চলার জোর আহ্বান জানান তিনি।

