দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ইমামনগর এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উজ্জ্বল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভেকু (এস্কাভেটর) দিয়ে এই মাটি কাটা হচ্ছে।
সরেজমিনে ইমামনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত উজ্জ্বলের উপস্থিতিতেই ফসলি জমি থেকে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়া ফসলি জমি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কোনোভাবেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।
মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে উজ্জ্বল হোসেন জানান, তিনি দোহারের ডিএস সুরুজ, জুয়েল দেওয়ান ও জাহাঙ্গীর সরদারের মাধ্যমে ভেকু দিয়ে এই মাটি কাটছেন। এ সময় তিনি নিজেকে সাংবাদিক সোহেল রানার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, সোহেল রানা আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
প্রশাসনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি সুর পাল্টে বলেন, অনুমতি লাগবে- সেটা আমার জানা ছিল না। আগামীকাল সাংবাদিক সোহেল রানাকে নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করব।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সোহেল রানা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এই মাটি কাটার বিষয়ে কিছুই জানি না। উজ্জ্বল আমার আত্মীয় হলেও সে এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমার নয়।”
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে মাটি কাটা বন্ধ করে ভেকু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যদি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ফসলি জমির মাটি কাটা হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

