বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন উদীয়মান খেলোয়াড় সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ অংশ নিয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছেন। প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনের খেলায় বাংলাদেশের জুনিয়র ও সিনিয়র জিমন্যাস্টরা দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এদিন বাংলাদেশ মোট চারটি পদক জিতে নেয়। বাংলাদেশের ঝুলিতে যোগ হয় ১টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জ পদক।
জুনিয়র বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় উটিংওয়াং মারমা ভল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১৩.৫০০ পয়েন্ট অর্জন করে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এই ইভেন্টে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন। এর আগে তিনি স্টিল রিংস ইভেন্টেও স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
অন্যদিকে, মংচিং প্রু মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১১.৭০০ পয়েন্ট পেয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন।
সিনিয়র বিভাগে বাংলাদেশের রাজীব চাকমা ভল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১২.৭০০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রৌপ্যপদক জিতেছেন।
এ ছাড়া উহাইমং মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের জিমন্যাস্টরা মোট ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। পাশাপাশি সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় দল দলীয়ভাবে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের ১০ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আরও একবার বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন পাহাড়ের উদীয়মান কৃতি জিমন্যাস্টরা। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)’-এর ২১তম আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন উদীয়মান খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
মনোনীত সাত জিমন্যাস্ট হলেন- উহাইমং মারমা, প্রেনথৈ ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, মেনটন টনি ম্রো, উটিংওয়াং মারমা, রাজীব চাকমা এবং ওয়ে ওয়ে সাই মারমা।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোয়ান্টাম জিমন্যাস্টদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুর ওপেনের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক ও অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের এই উদীয়মান কৃতি সন্তানরা ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চেও দেশের জন্য বড় গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

