সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

তালা হাসপাতালের ড্রাইভারের দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায়? কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া!

তালা হাসপাতালের ড্রাইভারের দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায়? কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া!

‎শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা হাসপাতালের ড্রাইভার এনামুল ইসলামের দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায়? কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া খাটানো, রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আরএমও ডা. খালিদ হাসান নয়ন তালা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ বিল প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় পরিচালিত করেন ওই ড্রাইভার এনামুল ইসলাম।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় তালার একটি ক্লিনিকের ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স উপজেলার শাকদহা ব্রিজের কাছে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় তালা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার এনামুল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া দেন। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে ওই বিকল অ্যাম্বুলেন্স বেঁধে সাতক্ষীরায় গ্যারেজে টেনে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তালা হাসপাতালের আরএমও ডা. খালিদ হাসান নয়ন তার ব্যক্তিগত সহকারী রানার মাধ্যমে কর্তব্যরত উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লিটন মল্লিকের কাছ থেকে ভুয়া রশিদ তৈরি করিয়ে নেন বলে জানা গেছে। ড্রাইভারের বক্তব্য অনুযায়ী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে ‘ইলিয়াস’ নামে কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এনামুল ইসলাম বলেন, আমি রোগী নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। শাকদহা এলাকায় গিয়ে দেখি তালার একটি ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্স খারাপ হয়ে গেছে। তখন তাদের অনুরোধে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে বেঁধে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাই। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এভাবে ব্যবহারের সুযোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে ‘ইলিয়াস’ নামে কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লিটন মল্লিক বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আরএমও ডা. খালিদ হাসান নয়ন তার সহকারী রানাকে দিয়ে আমার কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার একটি রশিদ নিয়ে গেছেন। তবে গতকাল বিকেলে আমার দায়িত্ব ছিল না।

উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম বলেন, গতকাল দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আমার ডিউটি ছিল। এই সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স কোথাও ভাড়ায় যায়নি। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া খাটিয়ে থাকলে তা আমার জানা নেই।

তালা হাসপাতালের আরএমও ডা. খালিদ হাসান নয়নের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমি যতটুকু জানি, গতকাল অ্যাম্বুলেন্স কোথাও ভাড়ায় যায়নি। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *