তালা (সাতক্ষীরা): তালা প্রেস ক্লাবে মৎস্য ঘেরের বাসা ভাঙচুর, লুটপাট, হত্যার হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তালা প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের তালা সদর ইউনিয়নের হানেফ মোড়লের ছেলে ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম মোড়ল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কাকডাকা ভোরে উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের কোলাজবিলে আমার একটি মৎস্য ঘেরে থাকা বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে এবং আমার ছেলে শামিম মোড়লকে জবাই করে হত্যা করার চেষ্টা করা হলে সে পালিয়ে জীবনে রক্ষা পায়। এ সময় ডাকাতরা বাক্স ভেঙে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমি আমার নিজের জমি ও অন্যের জমি হারি নিয়ে ঘের তৈরি করে ১০ বছর যাবৎ মাছ চাষ করে আসছি। ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের মকবুল সরদারের ছেলে মোফাজ্জেল সরদার আমার ঘেরের পাশে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে। তাদের নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস না থাকায় তারা আমার ঘেরসহ বিভিন্ন ঘের থেকে মাছ চুরি করে। আমি এ কাজে বাধা দিলে তারা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
আমি দিনের বেলায় বাড়িতে থাকলেও রাতে ঘেরে থাকি। গতকাল বাড়িতে কাজ থাকায় ছেলে শামিমকে ঘেরে পাঠিয়েছিলাম। এদিন ভোর রাতে মোফাজ্জেল সরদার, তার ছেলে দেলোয়ার, মিজানুরসহ ৫-৬ জন অপরিচিত লোক বেকি দা, ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার ঘেরের বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে। সে দরজা খুললে আমাকে না পেয়ে ছেলেকে জবাই করার চেষ্টা করে। সে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে চিৎকার করলে অন্যান্য ঘেরের লোকজন এগিয়ে আসায় তারা পালিয়ে যায়।
এ সময় তারা ঘেরের বাসার বাক্স ভাঙচুর করে মাছ বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা আমাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে পার্শ্ববর্তী ঘের মালিক আব্দুর রহমান ও আসমত খাঁ বলেন, শামিমের ডাক-চিৎকারে এগিয়ে গিয়ে দেখি মোফাজ্জেল সরদার, তার ছেলে দেলোয়ার, মিজানুরসহ ৫-৬ জন লোক ঘাড়ে লম্বা দা ও ছুরি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তারা যেখানে পাবে সেখানেই নজরুল মেম্বারকে হত্যা করা হবে বলে শাসাতে থাকে।

