তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তিন পুরুষের বসতভিটার বাড়িঘর ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন মাছিয়াড়া গ্রামের মোহাম্মদ মোড়লের ছেলে ইউনুচ মোড়ল (৫৯)। ঘটনাটি রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার উত্তর মাছিয়াড়া গ্রামে ঘটে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একই গ্রামের মৃত ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে হযরত আলী মোড়ল (৫৭) ও তার ছেলে রাসেল মোড়ল (১৯) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগকারী ইউনুচ মোড়ল জানান, ৪ শতক জমির ওপর তাদের বাপ-দাদার তিন পুরুষের বসতভিটা রয়েছে। প্রায় ৮ বছর আগে প্রতিপক্ষ হযরত মোড়ল আদালতে একটি মামলা করেন, যা এখনও বিচারাধীন। তিনি দাবি করেন, রবিবার সকালে তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বেলা ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ হযরত মোড়ল তার লোকজন নিয়ে বসতভিটার কাঁচা-পাকা টিন ও টালির ছাউনি দেওয়া ৪টি ঘর ভেঙে ফেলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তার ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া তার ছোট ভাই আকবর মোড়লের ঘরও ভাঙচুর করা হয় এবং ঘর নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে তোলা নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
ঘটনার সময় তাদের বৃদ্ধ মা মোমেনা (৮০) বাধা দিতে গেলে হযরত আলীর ছেলে রাসেল তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন ইউনুচ মোড়ল। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হযরত আলী মোড়লের ছেলে রাসেল মোড়ল বলেন, “জমিটি আমাদের রেকর্ডভুক্ত। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ হয়েছে এবং রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। কিন্তু তারা জমি ছাড়েনি। তাই আমরা ভাঙচুর করেছি।” তবে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এটি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।”
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, “ভাঙচুরের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

