মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও রোগীসেবার প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম গত ১ ডিসেম্বর সোমবার সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর বাজারে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পপুলার মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে ডা. মো. নিয়ামুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার পপুলার মেডিকেল সেন্টারে প্রবেশের পর ডা. মো. নিয়ামুল ইসলামের নিজ চেম্বারে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান লিটন রায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিহার রঞ্জন দাসসহ প্রতিষ্ঠানের স্টাফবৃন্দ।
গরিবের বন্ধু খ্যাত ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবায় পরিচিত এক মানবিক মুখ। রোগী দেখার সময় তাঁর ব্যবহারের আন্তরিকতা ও ধৈর্যই তাকে আলাদা করে। সহকর্মীরা বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেন ঠান্ডা মাথায়, রোগীকে বোঝান সহজ ভাষায়, আর চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীর স্বস্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই সার্জারির মতো জটিল বিভাগেও তাঁর ব্যস্ততা কখনো যান্ত্রিক হয়ে ওঠে না, বরং মানবিক হয়ে ওঠে।
রাজবাড়ী থেকে প্রাথমিক, এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে তিনি ২০০১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা বিষয়ে স্নাতক (এমবিবিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৫ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসা বিষয়ে একের পর এক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে থাকেন। তাঁর অর্জিত ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে- এফসিপিএস (সার্জারি), এমআরসিএস (লন্ডন), এমআরসিএস (এডিন), ডিএমইউ (বিআইএইচএস), বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিএসসি (শ্রীলংকা), এফএসিএস (আমেরিকা), এফআইএসসিপি (ইন্ডিয়া), সিসিডি (বারডেম)সহ আরও ডিগ্রি, যা তাঁকে সার্জিক্যাল সায়েন্সে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিকিৎসা শিক্ষায় তাঁর অগ্রগতি সবসময়ই ছিল ধারাবাহিক।
বিগত এক যুগে তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মানবিক সেবার মানসিকতা। দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে তিনি প্রায়ই ভিজিট নেন না, ফোনে পরামর্শ দেন, আবার জরুরি প্রয়োজনে নিজেই সময় বের করে দেখেন। সহকর্মীরা জানেন, তিনি কাউকে ফিরিয়ে দেন না- এটাই তাঁর স্বভাব।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে যোগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। অপারেশন থিয়েটার, ওয়ার্ড, একাডেমিক ক্লাস—সব জায়গাতেই তিনি সমান মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। জুনিয়র চিকিৎসকেরা বলেন, তাঁর কাছ থেকে শুধু সার্জারি নয়, পেশাদার নৈতিকতাও শেখা যায় সবচেয়ে বেশি।
সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতির মাধ্যমে নতুন দায়িত্ব তাঁর সামনে আরও বিস্তৃত পরিসর খুলে দিয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া, ভবিষ্যৎ সার্জনদের গড়ে তোলা এবং রোগীসেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা—সব ক্ষেত্রেই তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে এই অর্জন।
ডা. নিয়ামুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা করার সুযোগ পাই- এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহ যেন আমাকে সবসময় সৎভাবে কাজ করার তাওফিক দেন।
রোগীসেবা, পেশাগত একাগ্রতা ও মানবিকতার যে সমন্বয় তিনি বহু বছর ধরে বজায় রেখেছেন, এই পদোন্নতি তারই স্বাভাবিক পরিণতি বলে মনে করেন সহকর্মীরা।
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে ডা. নিয়ামুল ইসলামের যাত্রা এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম এর আগে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরও আগে তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গরিবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই মানবসেবক দুনিয়া কাঁপানো মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জীবন-মরণ বাজি রেখে ঝুঁকি নিয়েই অগণিত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলেন।
ডা. নিয়ামুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড়লক্ষীপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মো. আবদুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা ছিলেন।
ডা. নিয়ামুল ইসলাম পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। শৈশব-কৈশোর তাঁর রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড়লক্ষীপুর গ্রামেই কেটেছে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। নিজেকে মানবসেবায় নিয়োজিত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন গরিবের বন্ধু ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম।

