আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): এক সময় রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে একটি ছোট্ট চায়ের দোকানই ছিল জয়নাল আবেদীনের (৬০) পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চললেও গত এক বছর ধরে মাথার সামনের দিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা একটি টিউমারসদৃশ অংশ তাঁর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
জয়নাল আবেদীন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগড়ি গ্রামের মৃত অফিজ মণ্ডলের ছেলে। মাথার ওপরের দিকে টিউমারের মতো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দিলে তিনি প্রথমে রাজশাহীতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। পরে তিনি দিনাজপুরের ভাদুড়িয়া বাজারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মো. নাজমুল হোসাইনের কাছে চিকিৎসা শুরু করেন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মাথার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিটি কিছুটা কমলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি।
অসুস্থতার কারণে তাঁর চায়ের দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আয়ের একমাত্র উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তিন বেলা খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার জন্য সহায়তার আশায় জয়নাল আবেদীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। আমার স্ত্রী-সন্তানদের দেখার মতো আর কেউ নেই। চিকিৎসক বলেছেন উন্নত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারতাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

