সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও মাই টিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন সাথীর কারামুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক বছর কারাবাসের পর তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক পুরোনো দুটি হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বজন ও আইনজীবীরা।
আইনজীবী ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক দুটি হত্যা মামলায় নাসির উদ্দিন সাথীকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তবে পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, ওই দুই মামলার এজাহারে তাঁর নাম নেই।
পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, সব মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়ার পর যখন তাঁর কারামুক্তির নথিপত্র প্রস্তুত হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন আবেদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর জামিনে মুক্তির অধিকারকে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
নাসির উদ্দিন সাথী দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। কারাগারে থাকাকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর স্বজনেরা জানান, একদিকে তাঁর বয়স ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে দীর্ঘ এক বছরের কারাবাস-সব মিলিয়ে তাঁরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশের পর তাঁর মুক্তির প্রহর গুনছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু পুলিশের নতুন আবেদনে সেই প্রত্যাশা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন, নাসির উদ্দিন সাথী কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁদের অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে তাঁকে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। একজন অসুস্থ নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, শারীরিক অবস্থা ও মৌলিক আইনি অধিকার বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত মুক্তির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) আবেদন করলেই তা চূড়ান্ত হয়ে যায় না। আদালত এ বিষয়ে আদেশ দিলেই কেবল তা কার্যকর হয়। তাই যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার আবেদন দুটির বিষয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে নাসির উদ্দিন সাথীর কারামুক্তির পরবর্তী আইনি ভবিষ্যৎ।

