বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): আসন্ন ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা পৌরসভায় আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। যদিও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে লামা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়, আগামীতে কে হচ্ছেন লামা পৌরসভার অভিভাবক?
সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক (যেমন দাঁড়িপাল্লা, নৌকা, ধানের শীষ) থাকছে না। দলীয় প্রতীক ছাড়াই প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, যা এবারের নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও ব্যক্তি-ইমেজ নির্ভর করে তুলছে। ঈদুল আজহার পরবর্তী সময়ে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ এবং দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের জোর সম্ভাবনা থাকায় এখন থেকেই কোমর বেঁধে মাঠে নামছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন আলোচনায় লামার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মুখে যাদের নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বারবার উঠে আসছে, তারা হলেন- আমির হোসেন (আমু), জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পূর্বের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক মো. ফারুক আহমদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি। একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনীর কারণে তিনিও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
আলহাজ আইয়ুব আলী কোম্পানি, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। জনহিতৈষী ও ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
ডা. মাওলানা শফিকুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও বান্দরবান দক্ষিণ জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেতার নামও আলোচনায় জোরালোভাবে আসছে।
অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম, লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। শিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তিনি সমাদৃত।
অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী, লামা পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য-সচিব। একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আইনজীবী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
মো. শাহীন, কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদল নেতা। দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তিনি তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, লামা পৌরসভার ভোটাররা মনে করেন, প্রতীক বড় বিষয় নয়; তারা এমন একজন মেয়র চান, যিনি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন। পাশাপাশি পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, নিরাপদ পানীয় জলের সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে লামাকে একটি আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব শহরে রূপান্তর করবেন।
তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন সরব উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী লামা পৌরসভা নির্বাচন হবে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার গলায় ওঠে জয়ের মালা।

