মাদারীপুর: দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেশ ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের যুবক ফয়সাল মোড়ল (২২)। তবে সেখানে না গিয়ে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবানে (টিটিপি) যোগ দেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে টিটিপি সদস্য হিসেবে ফয়সাল পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল গত বছরের মার্চে (২০২৪) হিজামা সেন্টারে চাকরির কথা বলে দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। কিন্তু পরিবারের অজান্তেই তিনি পাকিস্তানে গিয়ে টিটিপি দলে যোগ দেন।
কোরবানির ঈদের আগে শেষবার পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে ফয়সাল নিখোঁজ ছিলেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৭ জন টিটিপি সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ফয়সালও ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী ফয়সালের পোশাক, আইডি কার্ড, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের ছবি দেখে ফয়সালের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার পরিবার। এই ঘটনায় তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
ফয়সালের বাবা আব্দুল আউয়াল মোড়ল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে চাকরি করেন। মা চায়না বেগম গৃহিণী এবং বড় ভাই আরমান হোসেন দারাজে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করেন।
ফয়সালের চাচা আব্দুল হামিম মোড়ল জানান, ফয়সাল ঢাকায় মতিঝিলের সামনে আতর-টুপি বেচাকেনা করতেন। তিনি বলেন, কারা আমার ভাতিজাকে এই সংগঠন নিয়ে গেছে আমরা জানি না। আমরা ভাবতেই পারিনি ফয়সাল এমন জায়গায় গিয়ে জীবন হারাবে। পরিবার তার লাশ দেশে ফেরত চায়।
নিহতের মা চায়না বেগম বলেন, আমার ছেলে দুবাইয়ে চাকরি করতে গিয়েছে বলে আমরা জানতাম। সে পাকিস্তানে গিয়ে গুলিতে মরবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি সরকারের কাছে এই হত্যার বিচার চাই। আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে…
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবার চাইলে নিহত ফয়সালের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পুলিশ সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, কেউ যাতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনে আর যুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান।

