ডেস্ক: চট্টগ্রামে মার্কিন সামরিক বিমান ও সেনা উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তা আসলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের একটি যৌথ মহড়ার অংশ। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ার নাম “অপারেশন প্যাসিফিক এনজেল ২৫-৩”।
এই মহড়া কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশ দখলের প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো। মহড়ার মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং কমব্যাট ট্র্যাকিং, সার্ভাইভাল এক্সারসাইজ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, চিকিৎসা প্রস্তুতি ও বিমান নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি।
মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের দুটি সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ জে বিমান এবং একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ১৫০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ জন সেনা সদস্য যুক্ত আছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন সেনারা কোনো হোটেলে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অবস্থান করছেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, অন্য যেকোনো বিদেশি অতিথির মতোই সেনারা নিয়ম মেনে পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য দিয়ে হোটেলে আছেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এ ধরনের মহড়াকে অনেকেই অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা আগেও ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: https://youtu.be/Y1WDqiERPRc?si=PF5OoUCN1f1HWBdn

