বাবু (গোবিন্দগঞ্জ): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, শৃঙ্খলা এবং বিচারপ্রার্থীদের সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসান।
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারক এসএম গালিব হাসান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আদালতের পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বিচারপ্রতিবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর গত প্রায় নয় মাসে দুই হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আদালতের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিচারক গালিব হাসান। আদালত প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বাগান তৈরি, বসার ব্যবস্থা এবং পরিবেশকে আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আদালত প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় পরিবেশ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন ও গোছানো। আদালতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ যাতে অপেক্ষার সময় স্বস্তিতে থাকতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারক এসএম গালিব হাসানের উদ্যোগ ও তদারকিতে আদালতের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে আদালতের পরিবেশে পরিবর্তন এলেও বড় একটি সমস্যা এখনো রয়ে গেছে- পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবন। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ একটি বৃহৎ উপজেলা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আইনি প্রয়োজনে চৌকি আদালতে আসেন। বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি আইনজীবী, মুহুরি ও তাঁদের স্বজনদের উপস্থিতিতে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বর্তমান অবকাঠামো এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে আইনজীবী ও মুহুরিদের জন্য প্রয়োজনীয় বসার ব্যবস্থা সীমিত।
স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা বলেন, এসএম গালিব হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতের পরিবেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তা ইতিবাচক। তাঁর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমেও গতি এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যারও সমাধান করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মামলার সংখ্যা ও বিচারপ্রার্থীর চাপের তুলনায় প্রয়োজনীয় বিচারক ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণ করা গেলে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, বিচারক এসএম গালিব হাসানের উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পরিবেশ ও সেবাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে পুরোনো ভবন, পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব ও অবকাঠামোগত সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। তাই আদালতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্রুত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন আদালত ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

