সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে নান্দনিক পরিবর্তন, তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে নান্দনিক পরিবর্তন, তবু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আদালত প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সেবার মান বাড়াতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। মামলা নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এবং পরিবেশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এসব উদ্যোগ প্রশংসা কুড়ালেও পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিচারক সংকট এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসান ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর আদালতের পরিবেশ ও সেবাব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় নয় মাসে দুই হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে এসেছে পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ।

আদালত চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান তৈরি, বসার ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা যাতে স্বস্তিতে আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে পরিবেশের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বিপরীতে আদালতের অবকাঠামোগত সংকট বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম। এতে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আদালতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ একটি বৃহৎ উপজেলা হওয়ায় প্রতিদিন আইনি প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ চৌকি আদালতে আসেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, মুহুরি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু বর্তমান অবকাঠামো এই চাপ সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে আইনজীবী ও তাঁদের সহকারী বা মুহুরিদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।

স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মতে, আদালতের পরিবেশের উন্নয়ন এবং মামলা নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি প্রশংসনীয়। তবে দীর্ঘদিনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে শুধু পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আদালত ভবন।

এ ছাড়া দেওয়ানি আদালতে বিচারক সংকটও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামলার সংখ্যা ও বিচারপ্রার্থীদের চাপের তুলনায় প্রয়োজনীয় বিচারক এবং উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে কাঙ্ক্ষিত গতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আদালতে আইনজীবী ও তাঁদের সহকারী বা মুহুরিদের বসার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পেশকার সানোয়ার হোসেন বলেন, বিচারক স্যারের দিকনির্দেশনায় আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিকতা ও গতি এসেছে। প্রতিদিন শত শত মক্কেল ও আইনজীবী নথিপত্র এবং মামলার তথ্যের জন্য আসেন। আগে কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) তৈরি ও ফাইল সাজাতে যে সময় লাগত, এখন পরিবেশ ও শৃঙ্খলা উন্নত হওয়ায় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নথি উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে জন্য প্রতিদিনের মামলার তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করতে পেরে আমাদের কাজের গতিও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পরিবেশ ও সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিচারক সংকট এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আদালতের পরিবেশ উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় বিচারক নিয়োগ এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে বিচারিক সেবার মান আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা সুদৃঢ় হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *