গাইবান্ধা প্রতিনিধি: জাদুটোনা, প্রতারণার জাল এবং নারীদের মায়াজালে আবদ্ধ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. রাসেল মিয়া বর্তমানে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপকর্ম ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে একাধিক সুখী পরিবার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে জামিনে মুক্তির জন্য আসামিপক্ষ জোর তৎপরতা চালালেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (পিতা: মৃত আইয়ুব হোসেন, গ্রাম: বড় সাতালবাতাইল) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একজন ধুরন্ধর প্রতারক ও ঠকবাজ হিসেবে পরিচিত। তার অপরাধের মূল কৌশল ছিল জাদুটোনা ও কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। তিনি মূলত বিভিন্ন পরিবারের সরলমনা নারীদের টার্গেট করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অলৌকিক ক্ষমতা ও জাদুটোনার ভয় দেখিয়ে কিংবা নানা প্রলোভন দিয়ে নারীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতেন তিনি। পরবর্তীতে তাদের মগজধোলাই (ব্রেনওয়াশ) করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতেন এবং সুযোগ বুঝে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন।
সংসার ভাঙন ও একাধিক অপরাধের ইতিহাস:
অভিযোগ রয়েছে, রাসেল মিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক সুসংগঠিত ও সুখী সংসার ভেঙে গেছে। তার এই অনৈতিক ও অর্থলোভী আচরণের শিকার হয়েছেন অনেক নারী ও পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এটি রাসেলের প্রথম অপরাধ নয়। এর আগেও তিনি একই কায়দায় একাধিক নারীর জীবন বিপর্যস্ত করেছেন এবং বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে অনেকেই আগে মুখ খোলেননি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
বর্তমানে এই অভিযোগে রাসেল মিয়া কারাগারে থাকলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। তাদের দাবি, জাদুটোনা ও প্রতারণার এই কর্মকাণ্ডে রাসেল একা জড়িত নন; এর পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে। পর্দার আড়ালে থাকা ওই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাকে তথ্য, আশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়ে এসেছে।
এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বলেন, “রাসেল শুধু একজন প্রতারক নয়, সে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। জাদুটোনার নামে সে আমাদের পরিবারের নারীদের বিভ্রান্ত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, তাকে জেল থেকে বের করার জন্য একটি চক্র সক্রিয়ভাবে তদবির চালাচ্ছে। সে জামিনে মুক্তি পেলে আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। আমরা রাসেলসহ এই চক্রের মূল হোতাদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”
নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাসেলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বর্তমানে তার জামিনের জন্য আইনি ও বেআইনি বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটাই দাবি- সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রাসেলের পেছনে থাকা পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতারক জাদুটোনার নামে মানুষের সংসার ধ্বংস করার সাহস না পায়।

