সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

গলাচিপায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে গাভিন গরুর মৃত্যু, কান্নায় ভেঙে পড়লেন খামারি

গলাচিপায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে গাভিন গরুর মৃত্যু, কান্নায় ভেঙে পড়লেন খামারি

মো. নাসির উদ্দিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২ নম্বর গোলখালী ইউনিয়নে কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চার মাসের গাভিন একটি গরুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অন্যতম আয়ের অবলম্বন হিসেবে লালন-পালন করা প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাভিন গরুটির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে।

অভিযোগকারী গোলখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরসুহরী গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম মৃধার ছেলে মো. শাহীন মৃধা জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তাদের চার মাসের গাভিন গরুটি হঠাৎ স্বাভাবিকভাবে ঘাস খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি জুলেখা বাজারের একটি ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করেন। শাহীন মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দোকানের ওষুধ বিক্রেতা ও নিজেকে পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয়দানকারী বড়গাবুয়া গ্রামের মো. শাহ আলম তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্ষাকালে গবাদিপশুর এমন সমস্যা হয়ে থাকে এবং তিনি চিকিৎসা দিলে গরুটি সুস্থ হয়ে যাবে।

পরে তিনি বাড়িতে এসে গরুটিকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ইনজেকশন প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই গাভিন গরুটি ছটফট করতে শুরু করে, মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহীন মৃধা বলেন, গরুটি মারা যাওয়ার পর আমি তাকে বিষয়টি জানাই। তখন তিনি বলেন, ‘আমি কী করমু? আমার কিছু করার নাই।’ এরপর মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এদিকে একই গ্রামের মো. জলিল প্যাদার পরিবারও অভিযোগ করে জানায়, একই ব্যক্তির চিকিৎসা নেওয়ার পর তাদের গরুর গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারটির দাবি, গাভিন গরুটি ছিল তাদের সংসারের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। গরুটির মৃত্যুতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকার লোকজন ভুক্তভোগীর বাড়িতে ভিড় করেন। স্থানীয় খামারিদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. শাহ আলম একসময় গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন।

স্থানীয় খামারি ও সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *