আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া পৌরসভায় কর্মকর্তাদের তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট আধিপত্য’ রুখে দেওয়া যাচ্ছে না- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পৌরসভাকে নিজেদের প্রভাববলয়ে রেখে চলেছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী- সূত্রের দাবি এমনই। এদেরই একজন নগর পরিকল্পনাবিদ রানভীর আহমেদ। তিনি ২০১২ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভায় নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে যোগদান করেন।
সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের ঘনিষ্ঠজন ও রাজনৈতিক সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন রানভীর আহমেদের বাবা রবিউল ইসলাম। তাঁর অনুরোধেই নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগে মেয়র হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সুপারিশেই নিয়োগ পান রানভীর আহমেদ। তিনি আওয়ামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভায় যোগদান করেন। তবে বছরের মধ্যেই বদলি হয়ে আবার কুষ্টিয়া পৌরসভায় ফেরত আসেন। বদলি প্রক্রিয়াতেও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ।
কুষ্টিয়া পৌরসভায় যোগদানের পর স্থানীয় গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও তাতে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সূত্রের।
আরও জানা যায়, পৌরসভায় যোগদানের পর বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন রানভীর আহমেদ। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে তিনি ফোকাল পার্সনের দায়িত্বও পালন করেন। সমালোচকরা দাবি করেন, এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। টিনের ঘর থেকে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হওয়া- এমন অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ইস্টান রিলিজ’ (বদলির আদেশ) জারি হলেও তিনি এখনো কুষ্টিয়া পৌরসভায় শহর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বদলিকৃত কর্মস্থল ছিল গোপালগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি কুষ্টিয়া থেকে যে বেতন তুলছেন, তা নিয়মবিরোধী।
এ বিষয়ে শহর পরিকল্পনাবিদ রানভীর আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন গ্রহণ করেননি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মিজানুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে রিসিভ করেননি। দায়িত্ববান কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টি তাঁর নজরে আসলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন- এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।

