সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি বাড়িতে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে

কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি বাড়িতে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে, কালের বার্তা

কুষ্টিয়া: ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পতন হলেও ক্ষমতা হারাননি যুবলীগ নেতা আনিচ। হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতা ছিল যার নিত্যদিনের সঙ্গী। জুলুম, অত্যাচার, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিই ছিল যার মূল পেশা। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ষড়যন্ত্রের রাজপ্রাসাদ।

৫ই আগস্টের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া হত্যা মামলার আসামি হয়েও এই নেতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। কখনো ফেসবুকে, কখনো টিকটকে আবার কখনো বা আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আনিচ নিজ এলাকাতেই অবস্থান করছেন, তবুও অদৃশ্য শক্তি তাঁকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে। তিনি কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আনিচ কুমারখালী উপজেলার ১ নং কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকার মৃত মো: মহিউদ্দিনের ছেলে এবং কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

এই নেতা এতটাই ক্ষমতাবান যে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করেন। তিনি আপন ছোট ভাইয়ের ২৫ বিঘা ফসলি জমি দখল করে সেই জায়গা লিজ দিয়ে রেখেছেন। সেই অর্থ দিয়েই এলাকায় আবারও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই নেতা।

এদিকে, আনিচের ছোট ভাই আসাদের ২৫ বিঘা মাঠের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল নিয়ে তাঁর দলের কর্মীদের লিজ দেওয়া হয়েছে। আনিচের ছোট ভাই আসাদ জানান, “আমার বড় ভাই আনিচ ছোটবেলা থেকেই অনেক চালাক। আমি একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে নিজের পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। নিজের নামে এত সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমি ভোগ-দখল করতে পারছি না। আমি একটু দুর্বল প্রকৃতির মানুষ, কম বুঝি। আমার বাবার মৃত্যুর আগে আমাদের মায়ের নামে জায়গা বাদে সব জমি ভাগ করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার জায়গা আমাকে ভোগ-দখল করতে দিচ্ছে না আনিচ। একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এত ক্ষমতা দেখায়? আমি না হয় দুর্বল, এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোনো জালিম আমার ভাই হতে পারে না। যে নিজের ভাইয়ের সাথে অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম করতে পারে, সে এই ১৫ বছর কী করেছে আপনারাই ভাবুন। আমার দাবি, আমি আমার জায়গাগুলো ফেরত চাই, যাতে আমি আমার পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারি। আমি জায়গা-জমি ফেরত চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে,” বলে তিনি জানান।

এছাড়াও যুবলীগ নেতা আনিচ বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করার অভিযোগে জেল খেটেছেন এবং আদালতে পুলিশ রিমান্ড চাইলে সে সময় দলের প্রভাব খাটিয়ে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আনেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, যুবলীগ নেতা আনিচের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমাকে একটু তথ্য দিন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *