সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

কুলিয়ারচরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছনার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে থানায় অভিযোগ

কুলিয়ারচরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছনার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে থানায় অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার পর প্রকাশ্যে পথরোধ করে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে আলম মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযুক্ত আলম মিয়া উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া এলাকার মৃত মুতি মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে গত প্রায় ছয় মাস ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন আলম মিয়া। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে বিচার চাওয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা উল্টো ভুক্তভোগী কিশোরীকেই দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত রোববার (২ আগস্ট) ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে আলম মিয়া প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীর পথরোধ করে কুপ্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত দেন। এতে সাড়া না দিলে তিনি শিক্ষার্থীর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে শিক্ষার্থীর চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত নিজের গোপন অঙ্গ প্রদর্শন করে কিশোরীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।

পরিবার জানায়, মাত্র ছয় মাস বয়সে বাবা হারানো এই কিশোরী অত্যন্ত কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ছেলেটি প্রায়ই আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। সর্বশেষ বাবা-হারা এই শিক্ষার্থীকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, এরপর আমি আর নীরব থাকতে পারিনি। তাই নিজেই মেয়েটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি এবং থানায় এসে অভিযোগ করেছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, “আমার ভাতিজিকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। বারবার বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন আমরা প্রশাসনের কাছে তার নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী, তাঁর স্বজন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *